ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন

ফ্রিল্যান্সির ক্যারিয়ার গাইডলাইন এটি একটি পরামর্শমূলক ব্লগ।। আশা করি পাঠকরা এখান থেকে একটি সম্মক ধারনা পাবেন এবং উপকৃত হবেন। বাংলাদেশে চাকুরীর বাজারে যে প্রতিযোগিতা টাতে চাকুরী পাওয়া সত্যিই শুধু কঠিন না, জটিল রকমের কঠিন। জটিল রকমের কঠিন বললাম এই জন্যই যে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই চাকুরী পেতে হলে আপনার যোগ্যতার সাথে অন্যান্য বিষয় যেমন টাকা, চাচা ভাইস্থা, পরিচিত এইসব সংযোগ ঘটাতে হয়। যাদের যোগ্যতার সাথে ঐসব থাকেনা তাদের চাকুরীর জন্য দৌড়াতে দৌড়াতে পায়ের জুতা একটার পর একটা ক্ষয় হতে থাকে কিন্তু সোনার হরিণ আর মেলেনা। তো ফ্রিল্যান্সিং এ কি প্রতিযোগিতা নেই। হ্যা এখানেও প্রতিযোগিতা আছে। আপনার দক্ষতা সাথে চেষ্টা ও আগ্রহ সমন্বয় ঘটালে ঐসবের সংযোগ ঘটানোর প্রয়োজন পড়েনা। এটি এমন একটি পেশা যেখানে কাজ করার কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই। আপনার যখন ইচ্ছা, যেখানে ইচ্ছা কাজ করতে পারেন। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের চাহিদা অনেক অংশে কমিয়েছে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং। আপনি যদি আগ্রহী হোন চলুন তবে এ বিষয়ে একটু জেনে নিই। অনেকেই এ সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে হুট করে শুরু করে শেষে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেয়। এমনটি করবেন না প্লিজ। তাহলে তাহলে ফ্রিলান্সিং শুরু করতে প্রথমেই আপনার পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে ফ্রিলান্সিং কি এই বিষয়ের উপর।

ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্ত পেশা হল এমন কোন কাজ যা আপনি কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে আপনার ইচ্ছামত করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং বলতে মূলত ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করাকে বুঝায়। আপনি অনলাইনের যেসব কাজে দক্ষ, সেসব কাজ অনলাইনে করে দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন আপনার অনলাইন কাজের দক্ষতা অনলাইনে বিক্রি করে টাকা আয় করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলে। এটি সাধারন চাকরির মতোই, কিন্তু ভিন্নতা হলো এখানে আপনি আপনার স্বাধীন মতো কাজ করতে পারবেন। আপনার এখন কাজ করতে ইচ্ছা করছে না; আপনি করবেন না। যখন ইচ্ছা করবে তখন আবার চাইলেই করতে পারবেন। ধরাবাঁধা কোনো অফিস টাইম নেই। তবে আপনি য বায়ার এর কাজ করছেন তার সাথে যে সময়ের মধ্যে কাজটি দেওয়ার কথা সেই সময় মত দিলেই হলো। সাধারন চাকরি থেকে এখানে আরেকটি বিষয়-এর ভিন্নতা আছে। সেটি হলো কাজের স্থান। ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) এর নির্দিষ্ট কোনো অফিস নেই। মূলত আপনার বাড়িই হচ্ছে আপনার অফিস। এখানে বসেই আপনি বিভিন্ন দেশের বায়ারদের সাথে কাজ করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) এর ক্ষেত্রে খুব সহজেই সরকারি বেসরকারি অনেক চাকরির থেকে বেশি বেতনে কাজ করতে পারবেন আপনার যদি যথেষ্ট পরিমাণে দক্ষতা থাকে। আমাদের দেশে দক্ষতার কদর হয় না সেভাবে; দক্ষতা থাকলেও উপযুক্ত কাজ পাওয়া যায়না।  কিন্তু বাইরের দেশ গুলোতে হয়। আপনি সেসব দেশের বায়ারদের সাথে কাজ করে বাংলাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ/তিনগুণ অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আমাদের দেশের হাজারো ছেলে মেয়েরা এভাবে অর্থ উপার্জন করছে এবং তাদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছে। এবার আসুন ফ্রিল্যন্সিং করতে হলে কি কি দক্ষতা প্রয়োজন তা দেখে নেয়া যাক।

ফ্রিল্যান্সিং করতে যেসব দক্ষতা প্রয়োজন:

অনেকেরই দ্বিধাদ্বন্দে থাকে যে আসলেই কি আমি ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) করতে পারবো? কি কি জিনিস প্রয়োজন এই কাজের জন্য? আসলে সত্যি কথা বলতে তেমন কিছুই লাগবে না আপনাকে এই পেশা শুরু করার জন্য। আপনার ধৈর্য্য ও ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট । এগুলো থাকলেই আপনি এখানে নিমিষেই সফল হবেন। আপনি যে বিষয়ে কাজ করতে চান সে বিষয়ে আপনি আপরার দক্ষতা জ্বালাই করে নিয়ে কাজে মনোযোগ দিলেই সাফল্য আপনার আসবেই। এর পাশাপাশি আপনার দরকার হবে ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগের দক্ষতা এবং কাজ চালানোর মতো ইংরেজি জানা। ইন্টারনেট সম্পর্কিত ভালো ধারনা ও গুগল এবং ইউটিউব থেকে বিভিন্ন রিসোর্স খুঁজে বের করার দক্ষতা এক্ষেত্রে আপনাকে অনেক সহায়তা করবে। এই ছিল মুলত প্রয়োজনীয় বিষয়াবলী যা আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য যোগ্য করে তুলবে।   ফ্রিল্যান্সিং করার চারটি পূর্ব শর্ত
  • নিজস্ব ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ এবং ইন্টারনেট কানেকশন
  • একটি এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন
  • মিনিমাম ইংলিশ কমিউনিকেশন ল্যাংগুয়েজ
  • আপনার অনলাইন প্রেজেন্স (ওয়েবসাইট, সোস্যাল প্রোফাইল)

ফ্রিল্যান্সিং করতে কে বা কারা পারবে?

আগেই বলেছি যাদের প্রচুর ধৈর্য্য ও ইচ্ছাশক্তিই রয়েছে তারাই এ পেশায় সফল হতে পারবেন। যাদের প্রচুর দক্ষতা আছে কিন্তু ধৈর্য্য ও ইচ্ছাশক্তিই নেই তারা ভুলেও এ পথে পা বাড়াবেন না। । এগুলো থাকলেই আপনি এখানে নিমিষেই সফল হবেন। ভালভাবে কাজ না শিখে যদি মার্কেটপ্লেসে যান তাহলে আপনাকে একেবারে সব হারাতে হবে। কারণ একবার যদি কোন ক্লায়েন্ট আপনাকে নেগেটিভ ফিডব্যাক দেয় তাহলে অন্য কেউ আর আপনাকে কাজ দিবে না। অতএব আপনার যদি শিখার মানষিকতা থাকে তাহলেই আপনি ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন।

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন ?

এটা সকলেরই প্রশ্ন যে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করব কিভাবে । তো এই পেশায় ঢোকার জন্য আপনাকে প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার যে কাজে আগ্রহ সব থেকে বেশি সে কাজটি বেছে নিবেন। এর ফলে আপনি কাজ করে যেমন মজা পাবেন, তেমন অনেক দূর যেতে পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টিতে। যেমন ধরুন আপনি কন্টেন্ট রাইটিং বা বিভিন্ন বিষয়ে লেখা লেখিতে খুবই ভাল ও আগ্রহ বেশী সেটি বেছে নিলেন ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য। এই কাজটি কিন্তু বেশ ক্রিয়েটিভ ও যে বিষয়ে লিখতে চান সে বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে। সবার দ্বারা কন্টেন্ট রাইটিং করা সম্ভব নয়। এই বিষয়টি বেছে নেওয়ার পূর্বেই আপনি অবশই দেখবেন যে, এই কাজটি আপনি কেমন পারছেন, কেমন আগ্রহ আপনার এই কন্টেন্ট রাইটিং এর উপর। যদি দেখেন সব কিছু ঠিকঠাক, সেক্ষেত্রে এটিকে নির্ধারিত করে এই রিলেটেড যত কাজ আছে সব শিখবেন। এগুলো সম্পর্কে আপনি নিজে নিজেই গুগলে বা ইউটিউবে রিসোর্স খুঁজে সেখান থেকে দেখে দেখে শিখতে পারেন, আবার চাইলে বিভিন্ন কোর্স আছে অনলাইনে সেগুলোও করতে পারেন। পুরোটাই আপনার ইচ্ছার উপরে নির্ভরশীল। তবে কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই ভাল করে শিখে নিবেন। কাজ শেখার পরে এবার কাজ করার পালা। কাজ করার জন্য আপনাকে প্রথমেই একটি ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে (Freelancing Platform) একাউন্ট খুলতে হবে। এরকম অনেক প্লাটফর্ম রয়েছে বর্তমানে। এর মধ্যে কয়েকটি জনপ্রিয় প্লাটফর্ম হলো  Upwork, Fiverr, Freelancer ইত্যাদি। একাউন্ট খোলার পর সেটিকে সুন্দর করে সাজাতে হবে। এটাকে ফ্রিল্যান্সদের ভাষায় গিগ বলে। দোকানে যেমন বিভিন্ন পন্য সাজানো থাকে, ঠিক তেমন করেই আপনার করা কাজগুলো পোর্টফোলিও আকারে সাজিয়ে রাখতে হবে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস (Marketplaces) গুলোতে। এর পরে কাজের জন্য বিভিন্ন বায়ারদের কাছে কাজের জন্য বিট করতে হবে। আসলে প্রত্যেকটা কাজের ক্ষেত্রেই প্রথম ধাপটা একটু কষ্টকর হয়ে থাকে। ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি ভিন্ন নয়। এক্ষেত্রেও প্রথম কাজটা পাওয়া একটু কষ্টসাধ্য। তবে কারো রেফারেন্সের মাধ্যমে কাজ পাওয়া অনেক সহজ এখানে। সেক্ষেত্রে আপনি পরিচিত কোনো ফ্রিল্যান্সারের সাহায্য নিতে পারেন। আপনি হয়তো জানেন যে বাংলাদেশে একটা বড় কমিউনিটি আছে ফ্রিল্যান্সারদের। সেখান থেকেও সাহায্য নিতে পারেন। প্রথম কয়েকটি কাজ পাওয়া গেলে এর পর থেকে আর কাজের অভাব হয় না। তবে তার জন্য আপনাকে আপনার কাজের কোয়ালিটি বজায় রাখতে হবে, সময়মত কাজ ডেলিভারী দিতে হবে এবং ক্লায়েন্টের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে আপনাকে আপনার ক্লায়েন্টকে সন্তুষ্ট করতে হবে।

নতুনরা ফ্রিল্যান্সিং পেশায় কিভাবে আসতে পারে

আজ থেকে ১০/১২ আগের কথা আজকে চিন্তা করি তাহলে ভাবতেই অবাক লাগে সেই সময় ফ্রিল্যান্সাররা কিভাবে করে কাজ করতো আর কিভাবে কাজগুলি শিখেছিল। ১০-১২ বছরের ব্যবধানে আজকে নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং এর জগতে আসাটা যতোটা সহজ হয়েছে, সেটি আসলে বলার মতো নয়। সেই সময় খুব বেশি মানুষের বাসায় কম্পিউটারই ছিল না, ইন্টারনেট সংযোগ ছিলনা, যাও পাওয়া যেত টা কতটা ধীর গতির তা ভাবা যায়না। বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে। তাই ফ্রিল্যান্সিং এর জগতে নতুনদের আসতে এখন আর খুব বেশি কোনো সমস্যা হয় না। ফ্রিল্যান্সিং সর্ম্পকিত সমস্ত তথ্য ইন্টারনেটেই আছে। আপনি গুগল কিংবা ইউটিউবে কিছুটা ঘাটাঘাটি করলে এই বিষয়ে আরো জানতে পারবেন। তাছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন প্রফেশনাল মানের অনলাইন কোর্স থেকে শুরু করে অনেক ভালো ভালো ট্রেনিং সেন্টারও রয়েছে; যেখানে আপনি ট্রেনিং করে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। তবে একটি বিষয় অবশ্যই চিন্তা করা প্রয়োজন। ফ্রিল্যান্সিং এমন কোনো পেশা নয় যেখানে আপনি এক মাস কাজ করলেই খুব ভালো আয় করতে পারবেন। আপনাকে ধৈর্য্য সহকারে কাজ করে যেতে হবে। পথটা দুর্গম ও কষ্টকর হলেও আপনার ইচ্ছাশক্তি ও মনোবল থাকলে এটি কোনো সমস্যা হবে না আপনার জন্য। এ বিষয়ে আরো জানতে পড়ুন।

ফ্রিল্যান্সিং উপকারিতা বা সুবিধাসমূহ;

ফ্রিল্যান্সিং করার অনেক সুবিধা রয়েছে । এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলো নিচে বর্ণনা করা হলোঃ

সুবিধামত সময়ে কাজ

ফ্রিল্যান্সরা তাদের সুবিধামত সময়ে কাজ করতে পারে। এ কাজে আপনার সুবিধা অনুযায়ী সময়ে আপনি কাজ করতে পারবেন। এর পুরোটাই নির্ভর করবে আপনার উপরে। আপনি যদি চান আপনি এখন কাজ করবেন না, আপনাকে কেউ জোর করবে না এখন কাজ করতে। যে কোন সময় কাজ করে শুধু কাজের ডেলিভারী সময়মত দিলেই হলো।

কাজের স্বাধীনতা

আপনার যে কাজ ভাল লাগে আপনি সেই কাজই বেচে নিতে পারেন। আপনাকে কেউ চাপিয়ে দিবেনা। আপনি নিজেই নিজের কাজ বেছে নিতে পারবেন। আপনার যে কাজটি সব থেকে ভালো লাগে সেটিকে বেছে নিতে পারবেন ও চাইলে যতদিন ইচ্ছা ওই কাজ করে যেতে পারবেন।

পড়ালেখার পাশাপাশি কাজের সুযোগ

এই পেশাটি আপনি চাইলে ফুল টাইমও (Full Time) নিতে পারেন আবার পার্ট টাইম (Part Time) হিসাবেও কাজ করতে পারেন। তাই ছাত্র থাকা অবস্থায়ও এই কাজ আপনি করতে পারবেন বিনা ঝামেলায়।

নিজের মন মতো কাজের পরিবেশ

আপনি চাইলেই নিজের ইচ্ছা মতো ওয়ার্কস্টেশন (Workstation) বানিয়ে নিতে পারবেন কাজ করার জন্য। আপনার কাজের জায়গা আপনি নিজেই তৈরি করতে পারবেন।

নিজের বেতন নিজে ঠিক করা

আপনার দক্ষতা অনুসারে আপনার নিজের পেমেন্ট রেট (Payment Rate) আপনি নিজে বেছে নিতে পারবেন। প্রায় প্রত্যেকটা মার্কেটপ্লেসেই নিজের পেমেন্ট রেট উল্লেখ করার সুযোগ রয়েছে। আপনি যত বেতনে কাজ করতে চান সেটি অনুযায়ী কাজ পাবেন এখানে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করা সুযোগ

যেহেতু আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। এর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ না করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বা বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করতে পারবেন। এক্ষেত্রেও ক্লায়েন্ট (Client) বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পুরোটাই আপনার নিজের উপরে। এতে আপনি বিভিন্ন ক্লায়েন্টের চাহিদা, রুচিবোধ বিষয়ে অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন যা ভবিষতে আপনার অনেক উপকারে আসবে।

দলগত কাজের সুযোগ

আপনি এককভাবে কাজের পাশাপাশি আপনারা দলগতভাবেও কাজ করতে পারেন। পারস্পারিক  সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে কাজটি করতে পারলে আরো বেশী দ্রুত শিখতে ও সফলতা পেতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) এর অসুবিধা

ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু যেনম অনেক সুবিধা রয়েছে তার পাশাপাশি অসুবিধাও রয়েছে। স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এক্ষেত্রে। চলুন দেখে নিই এর অসুবিধাগুলোওঃ
  • ফ্রিল্যান্সেরদের (Freelancer) দীর্ঘ সময় একই জায়াগায় বসে কাজ করতে হয়। এজন্য কোমর, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাথা সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হতে পারে।
  • কম্পিউটার এর সামনে একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়। তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফ্রিল্যান্সারদের চোখের সমস্যা দেখা যায়।
  • এক্ষেত্রে সব কাজ বাসায় বসে করতে হয়। এর ফলে একাকীত্বের মাধ্যমে মানুষ অবসাদগ্রস্ত হয়ে যায় যেটি পরবর্তীতে বড় রুপ ধারন করতে পারে।
  • প্রায়শই ঘুমের নানা রকম সমস্যায় সম্মুখীন হন ফ্রিল্যান্সাররা। কারন দেখা যায় আমাদের দেশে যখন রাত, ক্লায়েন্টের দেশে তখন দিন।
  • বাইরে তেমন বের না হওয়ার কারনে রোদের স্পর্শ পায় না তেমন এই পেশার লোকজন। সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি এর অভাব হওয়াটা ব্যতিক্রম কিছু না।

ফ্রিলান্সিং এর ভবিষ্যৎ কি

আমরা এখন সবাই জানি যে বর্তমান পৃথিবীর জনপ্রিয় সকল পেশার মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং পেশা অন্যতম। এটিও সত্য নতুন যারা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চায়, তাদের মনে ফ্রিন্যান্সিং নিয়ে হাজার রকমের প্রশ্ন থাকে। এছাড়াও অনেকে বলে আমি যদি ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখি, তাহলে ভবিষ্যতে আমার ক্যারিয়ার কেমন হবে, ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ কি ইত্যাদি। যারা ফ্রিলান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়তে চাই তাদের এরকম প্রশ্ন থাকতেই পারে সেটা খারাপ কিছু না। জেনে শোনে কোন কাজে শুরু করাটাই উত্তম।

যদি এক কথায় সহজ ভাষায় বলি ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ অনেক ভালো। বর্তমানে পৃথিবী তথ্য প্রযুক্তির উপর বেশি নির্ভর হচ্ছে। পৃথিবীর যত দিন তথ্য প্রযুক্তির উপর নির্ভর থাকবে, ততদিন ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ অনেক ভালো থাকবে। সুতরাং আপনি বা আপনারা নিশ্চিন্তে কাজটা শুরু করতে পারেন । তবে ধৈর্য থাকতে হবে।

ভুল পথে পা বাড়াবেন না।

পুরো পোস্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি। খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং সবসময় কথাগুলো মাথায় রাখার চেষ্টা করবেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইনে ইনকামের প্রতি লোভ দেখিয়ে মানুষকে বিভিন্ন ভাবে ঠকানো হচ্ছে। আপনি কোন প্রতারকের কাছে ধরা দিচ্ছেন না তো? খুব সতর্ক থাকতে হবে। আরেকটা বিষয় হলো ফ্রি তে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন। প্রচুর ব্লগ এবং ইউটিউবে ভিডিও পাবেন। এগুলো থেকে কিছু শিখতে যাবার আগে খুব সতর্কতার সাথে যাচাই বাছাই করে নিতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সির ক্যারিয়ার গাইডলাইন নামে  এমন সব রিসোর্স পাবেন, তারা আপনাকে শিখাচ্ছে, অথচ তারা নিজেরাই কিচ্ছু পারে না। অনেক গাইডলাইন পাবেন ফ্রিতে, সবকিছু নেওয়া যাবে না। নিজের বিবেক দিয়েও বিচার করতে পারবেন না আপনি মিসগাইড হচ্ছেন কি না। তাই আপনি যার কাছ থেকে গাইডলাইন নিবেন তাকে ভালোভাবে যাচাই করে দেখুন, সে আসলে কতটুকু এক্সপার্ট। আপনাকে কি আসলেই হেল্প করতে চাইছে, নাকি ফাঁদে ফেলতে চাইছে?

শেষ কথা

শেষে আবারও কথাটি বলতে চাই। ফ্রিল্যান্সিং এ সফল হতে হলো অবশ্যই লেগে থাকতে হবে এবং শিখতে হবে। রাতারাতি টাকা আয় করার বা সফল হওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবেন। সুতরাং ধৈর্যহারা হবে না । প্রত্যেকটা জিনিসেরই ভালো মন্দ উভয় দিক থাকে। এক্ষেত্রেও ভালো মন্দ উভয় দিক বিদ্যমান যা আমরা আলোচনা করেছি বিস্তারিতভাবে। এখানে একটু নিয়ম মেনে চললে ফ্রিল্যান্সিং এর অসুবিধাগুলোকে খুব সহজেই এড়িয়ে চলা যায়। আশা করি এ পোস্টে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে একটা সম্মক ফ্রিল্যান্সির ক্যারিয়ার গাইডলাইন পেয়েছেন। আপনার মতামত অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ।

You May Also Like

3 thoughts on “ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন”

  1. একটি পরিপূর্ণ গাইড লাইন পাওয়া গেল। ধন্যবাদ লেখককে ও ইচ্ছেঘুড়িকে। শুভ কামনা।

  2. Nice article. I think it will be beneficial for who are interested to develop their career in online. thanks for the nice article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)