আমরা জানি কেক হরেক রকম করে বানানো যাই। ডার্ক চকোলেট কেক তারই একটি। বেশীর ভাগ মানুষই কেক পছন্দ করে থাকে। তবে সবাই একরকম কেক পছন্দ করেন না। কেননা একেক রকমের কেক এর স্বাদ, ফ্লেবার ভিন্ন রকম। মানুষের পছন্দের রকম ফের এজ জন্য কেক এর বানানো হয় বিভিন্ন রকমের এবং নামও হয়েছে বিভিন্ন রকম। আর বিশেষ উপলক্ষ্য হলেতো কথাই নেই। বিশেষ বিশেষ দিবস উৎযাপনে কেক চা’ই চাই। বিশেষ করে জম্মদিনে পালনে তো কেক ছাড়া কথাই নেই। কেক লাগবেই, লাগবে। আর এই সময়ে এসে কেক এর প্রচলন আরো বাড়ছে। বিশেষ করে কিশোর কিশোররী, যুবক যুবতী ও শিশুদের কাছে কেক যেন আজকাল ফ্যাশনের অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। এখন খুব সহজেই বেকারী ও মিষ্টি এর দোকান থেকে কেক আনা বা কেনা যাই। তবে আমি আপনাদের বলব সময় থাকলে কেক নিজে বাড়ীতে বানিয়েই খান বা খায়ান।
বেকারি বা দোকানের কেক বনাম বাড়ীতে বানানো কেক
আচ্ছা বেকারি বলতেই আপনার কল্পনায় কি আসে বলুন তো? নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি তাই না? বেকারি তে কেক গুলোর কাঁচামাল একসাথে অনেক মজুদ করে, তাই অনেক সময় মেয়াদ শেষ হয়ে যায়৷ তখন কি সেগুলো ফেলে দেয়া হয়? মোটেও না৷ সেগুলো মেয়াদ শেষেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে, আর এইসব এর নিউজ আমরা প্রায়ই দেখি তাই না? সুতরাং বেকারী থেকে কেনা কেক ও বাড়ীতে বানানো কেক এর মধ্যে কিন্তু পার্থক্য রয়েছেই। এখন সিদ্ধান্ত নিনি কোনটা করবেন। তবে বাস্তব্যতা হলো এই আমাদের অনেকেরই বাড়ীতে কেক বানানোর মত সময় ও ধৈর্য থাকেনা বা কেক বানানো প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভাল জানিনা। তাই আজকে ডার্ক চকোলেট কেক রেসিপি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
কিন্তু আপনি আমি যারা বাড়ীতে কেক বানাই নিজেদের জন্য আমরা প্রয়োজন মত কাঁচামাল কিনি তাই আমাদের টা মেয়াদোত্তীর্ণ হবার চান্স নেই বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ফেলে দেই। কেকের পারফেকশন আনতে বেকারি তে কেক ইম্প্রুভার ইউজ করে৷ কিন্তু আমরা নিজেরা বানালেএইধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করি না। বেকারি তে ক্রিম নিন্মমানের ডালডা বা মার্জারিন ইউজ করে বানায়৷ আর আমরা উন্নত মানের হুইপড ক্রীম ও মাখন ব্যবহার করতে পারি বা করি। বাইরের কেকগুলো একই মাপে করায় সব একই ধাচের হয়৷ কিন্তু নিজে বানালে কেকের আমাদের নিজেদের পছন্দ মতো ডিজাইন এবং রং এ কেক টা বানাতে পারি৷ বেকারির কেকগুলোতে কি ধরনের রংয়ের ব্যবহার হয় সেই ব্যাপারটা তো সবারই জানা। সবচেয়ে বড় কথা আমরা বাড়িতে যা খাই, আমাদের বাচ্চাদের যা খাওয়াই সেই স্বাস্থ্যসম্মত খাবারটাই আমরা বানাতে পারি। তাই বাড়ীতে বানানো কেক এ মজাই আলাদা। নিজের পছন্দ মতো কেক এ স্বাদ ও ফ্লেবার দেওয়া যায় আর পরিস্কার পরিছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বানানো যায়। আর এতে তৃপ্তিও অনেক। আজকে আমরা ডাক চকোলেট কেক বানাবো।
ডার্ক চকোলেট কেক এর উপকরণ
- ১০০ গ্রাম ডার্ক চকলেট
- ২ টি ডিম
- ২/৩ কাপ চিনি
- ১/৪ কাপ মাখন
- ১/২ কাপ ময়দা
- ৩ টেবিল চামচ কোকো পাউডার
- ১/২ চা চামচ বেকিং পাউডার
- পরিমানমত লবণ
ডার্ক চকোলেট কেক প্রস্তুত-প্রনালী:
- শুকনা উপকরণগুলো একটি চালনির সাহায্যে চেলে নিন। চকলেট আর মাখন এক সাথে গলিয়ে পাশে রেখে দিন।
- একটি বড় পাত্রে ডিম ভেঙে তার সাথে চিনি মিশিয়ে বিটার দিয়ে বিট করুন যতক্ষণ না চিনি গলে যাই। এবার গলানো চকলেট দিয়ে আরও কিছুক্ষণ মিশিয়ে নিন।
- এখন শুকনা উপকরণগুলো একটু একটু করে দিন আর মেশাতে থাকুন।। যখন একটি পারফেক্ট মিশ্রন তৈরি হয়ে যাবে তখন আর মেশানোর দরকার নেই। অভার মিক্স করা যাবে না।
- ৪এবার কেকটি যে পাত্রে বসাবেন তার গায়ে হাল্কা করে তেল মেখে নিন। অথবা চাইলে বেকিং পেপার দিয়ে নিতে পারেন। মিশ্রণটি ঢেলে একটু ট্যাপ করুন যাতে কোন বাবল না থাকে।
- ৫যারা ওভেনে বেক করতে চান তারা ১৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ২০-২৫ মিনিট বেক করুন। আর যারা চুলায় বেক করতে চান তারা একটি মোটা তলাযুক্ত পাত্রের উপর স্ট্যান্ড বসিয়ে তার উপর কেক-এর পাত্র দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে একদম অল্প আচে বেক করুন ৫০ মিনিট। নামানোর আগে একটি টুথপিক দিয়ে চেক করে নিন। যদি টুথপিক ক্লিয়ার বের হয় তাহলে নামিয়ে একটু ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন। না হলে আরও কয়েক মিনিট বেক করতে হবে।
কেক কেন খাবেন
- কেক এ ডিমের ব্যবহার করা হয়। ডিমের ভিটামিন ই ফ্রি র্যাডিক্যাল নষ্ট করে ও স্কিন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
- যাদের শরীরে ল্যাকটোবায়োনিক অ্যাসিড বা সুগর অ্যাসিড এর অভাব আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই কেক না খাওয়াই ভালো।
- কেক এ মাখন ব্যবহার করা হয়। মাখন ভিটামিন সমৃদ্ধ । এটে ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন ই থাকে; যা ক্যালসিয়াম শোষনে সহায়তা করে। আশ্চর্জনকভাবে মাখনে ভিটামিন কে-২ থাকে যা চবিকে দ্রবনীয় করতে পারে।
প্রতি ১০০ গ্রামে পুষ্টি গুণ
মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস
শক্তি ৩৭১ ক্যালরি (১৯% উঠ)
ফ্যাট ১৫.১০ গ্রাম (২৩% উঠ)
স্যাচুরেটেড ফ্যাট ৫.৪০ গ্রাম (২৭% উঠ)
কোলেস্টেরল ৫৮ মিলিগ্রাম (১৯% উঠ)
কার্বোহাইড্রেট ৫৩.৪০ গ্রাম (১৮% উঠ)
ফাইবার ১.৬০ গ্রাম (৬% উঠ)
প্রোটিন ৫.৩০ গ্রাম (১১% উঠ)
খনিজ
ক্যালসিয়াম ৬০ মিলিগ্রাম (৫% উঠ)
আয়রন ১.৬০ মিলিগ্রাম (৯% উঠ)
পটাসিয়াম ১৪০ মিলিগ্রাম (৩% উঠ)
সোডিয়াম ৩১৫ মিলিগ্রাম (১৩% উঠ)
ম্যাগনেসিয়াম ৩২ মিলিগ্রাম (৮% উঠ)
জিঙ্ক ০.৭ মিলিগ্রাম (৬% উঠ)
ভিটামিন
ভিটামিন এ ১৭ মাইক্রোগ্রাম (২% উঠ)
ভিটামিন বি ১২ ০.২ মাইক্রোগ্রাম (৭% উঠ)
ভিটামিন সি ০.২ মিলিগ্রাম (০% উঠ)
ভিটামিন ডি ০ মাইক্রোগ্রাম (০% উঠ)
উপাদান%
জল ২৫%
কার্বোহাইড্রেট ৫৪%
প্রোটিন ৫%
ফ্যাট ১৫%
পুষ্টি উপাদান%
নেট কার্বোহাইড্রেট ৬৯%
ফাইবার ২%
প্রোটিন ৭%
ফ্যাট ২০%
গ্লাইসেমিক তথ্য
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫ – ৬০
গ্লাইসেমিক লোড ৩০ – ৩২
আশা করি পোস্টটি আপনাদের উপকারে আসবে। আপনাদের যে কোন মন্তব্য ও পরামর্শ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ।


Thank for the nice post.
খুব ভালো লাগলো। কেকটি দেখতে খুব সুন্দর হয়েছে।খেতেও সুস্বাদু হবে মনে হয়। ধন্যবাদ সুন্দর পোস্ট দেওয়ার জন্য।