নদীর এ পারের শূন্যতা যদি তোমায় কাঁদায়,
ও পারের শূন্যতা কি তবে দেবে পূর্ণতা?
অনিশ্চিত গন্তব্যে জলেরা ছুটে চলে অবিরত,
তীর ঘেঁষে রেখে যায় নীরব ব্যাকুলতা।
যে জল আজ ভেঙেছে স্মৃতির কূল,
সে জল কি সত্যিই খোঁজে চেনা কোনো ঠিকানা?
নাকি অসীম সাগরে মিশে মুছে ফেলে নিজের সত্তা,
মেটাতে হৃদয়ের গোপন, অজানা কোনো তৃষ্ণা?
হারিয়ে যাওয়া মানেই সব শেষ নয়,
কখনো কখনো হারাতেই হয় পুরোনো পরিচয়।
যে পথ ভেবেছিলাম শেষ, সেখানেই ঘুরে দাঁড়ায় হঠাৎ,
ভাঙা স্বপ্নের ভেতরেই জেগে ওঠে নতুন প্রভাত।
পূর্ণতা কি কেবলই কিছু পাওয়ার মাঝে থাকে,
নাকি কেবল এক অচিন স্থান বদলের খেলা?
অপূর্ণতার সুরেই তো বাঁধে জীবনের গভীর তান,
যেমন গোধূলির বুকে নেমে আসে আঁধারবেলা।
নদী যেমন সাগরের বুকে নিজেকে হারিয়ে খুঁজে পায়,
তেমনি একদিন তুমিও হয়তো বুঝে নেবে—
শূন্যতার হাহাকারে হারিয়ে যাওয়া মানে নিঃশেষ হওয়া নয়,
বরং ভাঙনের পথ ধরেই জীবনের পরম ঘ্রাণ মেলে।
যে ঢেউ আছড়ে পড়ে চরে, সে তো আর ফেরে না,
তবুও তো নদী থেমে থাকে না নদীর মায়ায়;
তুমিও তো সেই নদী, জীবনের টানে ছুটে চলো অসীমে,
সব হারানোর ব্যথায় খুঁজে পাও এক নতুন পথের ছায়ায়।
হয়তো কোনো এক গোধূলি শেষে,
নদী যখন নীরবে মিশে যাবে সাগরের নীলে,
তখন বুঝবে—যা হারিয়েছিলে, তা ছিল না তোমার শেষ,
হারানোর পথেই লুকিয়ে ছিল নতুন করে বাঁচার আবেশ।
শূন্যতা তাই শূন্য নয়,
অপূর্ণতা নয় কোনো পরাজয়;
জীবন কখনো ভাঙনের স্রোতে, কখনো জোয়ারের টানে—
নিজেকেই খুঁজে ফেরে নিজের অজানা গানে।
তাই চলে যেও, থেমো না আর,
যত দূর ডাকে অচেনা স্রোত;
হয়তো সেই অনন্ত যাত্রার শেষে
তুমিই খুঁজে পাবে তোমার হারানো অস্তিত্ব।
নদীর মতো বয়ে চলো—
পেছনে ফেলে স্মৃতির কূল;
যেখানে শেষ মনে হয়েছিল সবকিছু,
সেখানেই হয়তো ফুটবে নতুন ফুল।
কারণ শূন্যতার ওপারেই কখনো কখনো
অপেক্ষা করে থাকে পূর্ণতার আলো—
আর হারিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ পথ পেরিয়েই
মানুষ একদিন ফিরে পায়
নিজেকেই, নতুন করে।

