বেশ কদিন আগে আমি গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলাম। গনগনে রোদ্দুর। অলস দুপুরে ঝিমিয়ে পড়া জনজীবন। ময়মনসিংহ হতে ফুলপুর হয়ে নাগলা পার হচ্ছি । এমন সময় জানলার ফাঁক দিয়ে মুখটা তুলে উপরের দিকে একটু তাকাতেই নিমিষেই এ তপ্ত দুপুরটাও ভালো লাগতে শুরু করেছে। প্রকৃতির মধ্যে লাগা আগুন যে ছড়িয়ে পড়েছে কৃষ্ণচূড়া গাছ জুড়ে! নিজের অস্তিত্বকে জানান দিয়ে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রাণ–প্রাচুর্যে ভরা অপূর্ব কৃষ্ণচূড়া গাছ। এত উজ্জ্বল আর প্রাণবন্ত ফুল। প্রায় পাতাহীন গাছে থরে থরে সাজানো রক্তিম ফুলগুলো যেন অদ্ভুত ভালোলাগার এক আবেশ ছড়িয়ে দিয়ে যায় মনে।
Previous
Next
BUY NOW
ওহে কৃষ্ণচূড়া !
এইযাত্রা পথে মুখ বাড়িয়েই উপভোগ করছি তোমার মায়াবী সৌন্দর্য। অগ্নি রাঙা কৃষ্ণচূড়া তুমি এই খর তাপে চোখ জুড়ানো প্রশান্তি নিয়ে এলে। তোমার অপরুপ রুপে মোহিত হয়ে উঠেছে ভাবুক মন।মনে হচ্ছে কোন এক দক্ষ চিত্র শিল্পী তারই সুনিপুন হাতে মেখে দিয়েছে রঙের ছটা। তোমার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য সত্যিই আমাকে বিমোহিত করে। কে জানতো তোমার লাল লাল পাপড়ির উপরেও প্রকৃতি পরম মমতায় কি সুন্দর নকশা করে রেখেছে! ভুল করে এমনই এক পাগলা হাওয়ার অলস বিকেলে হয়তো কোনো পথিক তুলে নেবে, দেখবে, মুদ্ধ হবে– এই তার পরম তৃপ্তি। এই সামান্য মুদ্ধতার জন্য তোমার কতনা অসামান্য আয়োজন।
দুর থেকে দেখা যায় শুধুই তোমার লালের লীলা। তোমার অল্প যা কিছু পাতা আছে তাও যেন লজ্জায় লাল হয়ে মিলে যায় লালের সাথেই। প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দিতে নিজের সবটুকু রং ছড়িয়েছ, মেলে ধরেছ সারা বছরের লুকিয়ে রাখা নিজের সবটুকু রং।
মনলোভা উজ্জল লাল রংয়ের থোকা থোকা ফুল তুমি কৃষ্ণচুড়া। তুমি যখন জ্বলে উঠ এই প্রকৃতির বুকে তখন সব বাঙালীর হৃদয়কেই দোলা দেয়।বাংলার প্রকৃতিতে তোমার উপস্থিতি এত প্রবল যে সব গাছ সব রংকে ম্লান করে তুমি জেগে উঠ অম্নান রুপ ও রসে।
ক্ষমা করো আমায়। আমার ভাষাজ্ঞান স্বল্পতার জন্য তোমার সৌন্দর্যকে বাক্য শৈলীর গাঠনিতে ফুঁটিয়ে তুলতে পারিনি। তবে এটুকু বলতে পারি তুমি অপরুপ, অতুলনীয় ও অসাধারন। তোমার সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ ও বিমোহিত করে, তীব্র আকর্ষণ করে। তোমার সৌন্দর্য চিরভাস্বর ও অমলিনi হয়ে থাকুক। জয় হোক তোমার।

