প্রেমে পড়ার গল্প

প্রেমে পড়ার গল্প একটি নষ্টালজিক ঘটনা। এমন গল্পের নষ্টারজিয়া বার বার তৈরী হয়না। তাই প্রেমে পড়া বারণ কারণে অকারণ লগ্নজিতার গানে বারণ থাকলেও আমি সেই স্মৃতির প্রেমে ফিরে যাই কারনে অকারনেই বারংবার। অতীত অথচ ভালো লাগার সুখ স্মৃতি, পুরুনো কিন্তু জাগায় নতুন অনুভুতি । এ যেন প্রেমাছন্ন নতুন প্রেমিক হৃদয়ে সদ্য জম্ম নেওয়া ভালবাসা। কখনো পুরানো হয়না। নতুন হয়ে ফিরে আসে বার বার। “তুই প্রেমে পড়েছিস নয়তো ছ্যাকা খেয়েছিস।”

প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে এমন কিছু অনুভূতিসম্পন্ন ও ভালোবাসা মাখানো স্মৃতি থাকে যা চিরকাল নতুন থাকে মানুষের মনের মণিকোঠায়; কোন কাল, স্থান ,গণ্ডি তা মুছে দিতে পারে না । ঘটনার ইতি হয় কিন্তু স্মৃতি থাকে জীবনস্থায়ী। আহা! সময়টা কত অদ্ভুদ রকমের ভালছিল, মনের মনিকৌঠায় উকিঁ দেয় বারংবার। মনকে করে তুলে উতলা। পেছনের সময়টাকে টেনে আনতে প্রচন্ড ইচ্ছে করে সামনের সারিতে। ইচ্ছে ঘুড়িরা ডানা ঝাপটানো সেই সুখকর ক্ষণ-গন্তব্যে যেতে। কিন্তু চাইলেই কি আর পারা যায়। নাহ…. সময়কে তো আর পেছনে টেনে আনা যায়না। ধরা যাইনা, ছোঁয়া যাইনা, নাড়ানো সরানো যাইনা  কি মস্কিল!  তো…… মাঝে মধ্যে স্মৃতির নোঙ্গরে সাতরানোই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো।
অনেকতো হলো ঘটনাটা এবার বলি: এক সময় “তুই প্রেমে পড়েছিস নয়তো ছ্যাকা খেয়েছিস” বাক্যটা আমাদের বন্ধুদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয় ও নিত্য ব্যবহার হতো। তবে কেন?।

ঘটনার সুত্রপাত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে বন্ধুরা সকলে মিলে আড্ডা দিচ্ছি। আড্ডাটা বেশ জমছিলও বটে। অনেকক্ষণ আড্ডার পর সত্যিই পেটে টান পড়ে গেল । এই সময় বামুন (নাম বিশারদের দেওয়া নাম। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেটে ছিল বলে তার এই নাম হয়েছে, আসল নাম না বলাই ভালো) এক রোমান্টিক বুলি আওড়ালো । এটেই খেল্লা পটে । আমি বললাম কি ব্যাপার দোস্তু  তুইতো দেখি প্রেমে পড়েছিস নয়তো ছ্যাকা খেয়েছিস । বামুন বলে উঠল, এই দুষ্টুমি করবেনা। কেন কি হয়েছে। আমি বললাম কি হতে বাকী আছে? গোপনে এত কিছু। তোর কাছ থেকে এমন রোমান্টিক কথাতো আগে কখনো শুনিনি, এখন কোথা থেকে বের হলো। শোনেছি প্রেমে পড়লে নাকি মানুষ এমন রোমান্তিক কথা বলে। 

অন্য সকলে বলল উঠলো হ্যা হ্যা সত্যিইতো তুই প্রেমে পড়েছিস নয়তো ছ্যাকা খে্য়েছিস। বামুন বলতে থাকলো নারে দোস্তু না। তোরা ভুল বুঝিস না। এবার নাম বিশারদ বলে উঠল শোন, সবাই । অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্রকে বিদায় করেছি, দেশে আর স্বৈরতন্ত্রের চর্চা করতে দেয়া যায়না। জনগণ কি বলে শোনি। সকলে সমস্বরে বলে উঠল, হেরে আমাদের বামুন প্রেমে পড়েছে, নয়তো ছ্যাকা খেয়েছে। সেটা আবার গোপনে, আমাদের কাউকে জানাওনি। আমি আবার বললাম দোস্তু প্রেম করা অপরাধ না, অপরাধটা হলো তুমি গোপনে প্রেম করেছে। এটা কিছুতেই মাপ করা যায়না। সকলে বলে উঠল, জি মাপ করা যাইনা।

অতপর ভুড়ি ভোজঃ

অনেক বাক বিতন্ডার পর ফয়সালা হলো বামুনকে মিল্লাত করাতে হবে। অতপর: আমরা সকলে মিলে বামুনকে জোর করে প্রেমে পড়ালাম আর তার পকেটের বারোটা বাজিয়ে ভুড়ি ভোজ করে এক নির্মল আনন্দের স্বাদ নিলাম। এ থেকেই ’’তুই প্রেমে পড়েছিস নয়তো, ছ্যাকা খেয়েছিস” বাক্যটি সুপারহিট হতে থাকে। তবে গোপনে একটা কথা বলে রাখি আমাদের কারোরই প্রেমে না পড়ার ও ছ্যাকা না খাওয়ার রেকর্ড কিন্তু নেই। কোন না কোন এক সময় এই ফ্যাসাদে ফাঁসতে হয়েছে। অতি সাবধানে থাকার পরেও কোন এক সময় ফস করে রোমান্তিক বাক্য বের হওয়ার দায়ে কতজনের যে পকেট খালি করতে হয়েছে, তার কোন ইয়ত্তা নেই। আর হ্যাঁ আজো সেই সময়টা উপভোগ করি, মনে শিহরন জাগায়, ফিরে পেটে ইচ্ছে করে, বড় নষ্টালজিক হয়ে পড়ি। ’’তুই প্রেমে পড়েছিস নয়তো ছ্যাকা খেয়েছিস”

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)